বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেল: কাঠের ঘানির ঐতিহ্যে বিশুদ্ধতার ঘ্রাণ
বাঙালির রান্নাঘরে সরিষার তেলের স্থান কেবল একটি মশলা হিসেবে নয়, এটি যেন সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। সর্ষে ইলিশের ঘ্রাণ থেকে শুরু করে মুখরোচক ভর্তার স্বাদ—সরিষার তেলের উপস্থিতি ছাড়া যেন সবকিছুই পানসে মনে হয়। সরিষার তেল কেবল রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও অনস্বীকার্য। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বাজারে ভেজাল মিশ্রিত সরিষার তেলের ছড়াছড়ি এখন এক সাধারণ চিত্র। এই ভেজাল কেবল অপদ্রব্যের মিশ্রণ নয়, বরং নিম্নমানের স্পেলার তেল ব্যবহার বা বিভিন্ন জাতের সরিষার মিশ্রণ থেকেও আসতে পারে, যা তেলের আসল গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই বনভূমি এগ্রো ফুড নিয়ে এসেছে তাদের মাঘি সরিষার তেল (কাঠের ঘানি ভাঙ্গা)। এটি কেবল একটি পণ্য নয়, এটি বিশুদ্ধতার প্রতিশ্রুতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং স্বাদের এক নতুন সংজ্ঞা।
সরিষার তেল: রান্না ও স্বাস্থ্যের এক মূল্যবান উপাদান
সরিষার তেল, যা সরিষা বীজ নিষ্পেষণ করে পাওয়া যায়, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর ঝাঁঝালো স্বাদ এবং মন মাতানো ঘ্রাণ খাবারকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। রান্নার পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। ত্বকের যত্নে, ম্যাসাজ অয়েল হিসেবে এবং এমনকি কিছু ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। সরিষার তেলে থাকে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
কেন বনভূমি সরিষার তেল (Mustard Oil) আলাদা?
বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেলকে বাজারের অন্যান্য তেল থেকে আলাদা করে তোলে এর গুণগত মান এবং প্রস্তুত প্রণালীর বিশেষত্ব:
১. বাছাইকৃত ও পরিপক্ক সরিষা বীজ: তেলের মান নির্ভর করে কাঁচামালের ওপর। বনভূমি এগ্রো ফুড সর্বোচ্চ মানের, বাছাইকৃত এবং পরিপক্ক সরিষা বীজ ব্যবহার করে। এই সতর্ক নির্বাচন নিশ্চিত করে যে উৎপাদিত তেল হবে উৎকৃষ্ট গুণমানের।
২. কাঠের ঘানিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ: এটিই বনভূমি এগ্রো ফুডের সরিষার তেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। তারা নিজস্ব কারখানায় কাঠ দ্বারা প্রস্তুতকৃত ঘানিতে তেল প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। আধুনিক মেশিনের তীব্র ঘর্ষণে তাপ উৎপন্ন হয় যা সরিষার অনেক পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দেয়। কিন্তু কাঠের ঘানিতে তেল ভাঙানোর সময় কোনো তাপের সৃষ্টি হয় না, ফলে সরিষার প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং সুগন্ধ প্রায় যথাযথভাবে অক্ষুণ্ণ থাকে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি যা তেলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।
৩. কোল্ডপ্রেস পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ সংরক্ষণ: যেহেতু কাঠের ঘানিতে ভাঙানোর ফলে কোনো তাপ উৎপন্ন হয় না, তাই এই পদ্ধতিকে কোল্ডপ্রেস বা শীতল প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি বলা যায়। এটি নিশ্চিত করে যে সরিষার তেলের সমস্ত পুষ্টিগুণ, যেমন—ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্ষত থাকে। তাপের কারণে যে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, কাঠের ঘানি সেই ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
৪. রাসায়নিকমুক্ত বিশুদ্ধতা: তেলের ঝাঁজ বাড়াতে, রঙ বা ফ্লেভার সুন্দর করতে অনেক সময় বিভিন্ন রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেলে কোনো রকম কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না, যা এটিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ রাখে। এর ঝাঁজ এবং রঙ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে সরিষার গুণাগুণ থেকেই আসে।
৫. আধুনিক ফিল্টারিং ও পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ: তেল প্রক্রিয়াকরণের পর আধুনিক ফিল্টার মেশিনে পরিশোধন করা হয়। এই অত্যাধুনিক ফিল্টারিং পদ্ধতি তেলের গুণগত মান বজায় রেখে সকল অশুদ্ধি দূর করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিশোধন প্রক্রিয়ায় তেলের সকল পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ থাকে, যা অনেক বাণিজ্যিক ফিল্টারিং পদ্ধতিতে সম্ভব হয় না।
৬. BSTI অনুমোদিত: বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেল BSTI (Bangladesh Standard and Testing Institution) অনুমোদিত। এটি পণ্যের মান, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার একটি সরকারি স্বীকৃতি। BSTI অনুমোদন মানেই একটি পণ্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করে এবং ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।
বিশুদ্ধতার ঘ্রাণে রান্নার আনন্দ
বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেল আপনার দৈনন্দিন রান্নাকে এক নতুন মাত্রা দেবে। এর বিশুদ্ধ স্বাদ এবং তীব্র প্রাকৃতিক ঝাঁজ আপনার যেকোনো রান্নার স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। এটি কেবল খাবারের স্বাদই বাড়াবে না, বরং এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
সর্ষে ইলিশ, তেহারি, বিভিন্ন প্রকার ভর্তা, এমনকি আচার তৈরিতেও এই তেলের জুড়ি মেলা ভার। একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু রান্নার জন্য বনভূমি এগ্রো ফুডের মাঘি সরিষার তেল আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।
Login to ask a question